ইসলাম শিক্ষা
আকাইদ

রিসালাত

পাঠ 4

রিসালাত (ٱلْإِسْلَامُ)

আকাইদের বিষয়সমূহের মধ্যে রিসালাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাওহীদের পরই আসে রিসালাত। রিসালাত অর্থ সংবাদ বহন, খবর বা চিঠি পৌঁছান। ইসলামি পরিভাষায় আল্লাহ তায়ালার বাণী, আদেশ-নিষেধ মানুষের নিকট পৌঁছানকে রিসালাত বলে। যারা এ সংবাদ পৌঁছানোর কাজ করেন তাঁরা হলেন নবি-রাসুল। রিসালাত ও নবি-রাসুলের উপর বিশ্বাস করা ফরজ বা আবশ্যক।

৩২

আকাইদ

১১

নবি-রাসুলের সংখ্যা

আল্লাহ তায়ালা মানবজাতির হিদায়াতের জন্য বহু নবি-রাসুল এ দুনিয়াতে পাঠিয়েছেন। পৃথিবীতে এমন কোনো জাতি ছিল না যেখানে আল্লাহ তায়ালা নবি-রাসুল প্রেরণ করেননি। আল কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন—

وَلِكُلِّ قَوْمٍ هَادٍ

অর্থ : আর প্রত্যেক জাতির জন্য পথপ্রদর্শক রয়েছে (সূরা আর-রা'দ, আয়াত: ৭)।

কুরআন মজিদে আমরা মাত্র ২৫ জন নবি-রাসুলের নাম দেখতে পাই। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তাঁদের সংখ্যা ছিল অনেক। আল্লাহ তায়ালা বলেন—

وَرُسُلًا قَدْ قَصَصْنَاهُمْ عَلَيْكَ مِنْ قَبْلُ وَرُسُلًا لَمْ نَقْصُصْهُمْ عَلَيْكَ

অর্থ : অনেক রাসূল প্রেরণ করেছি যাদের কথা ইতঃপূর্বে আপনাকে বলেছি এবং অনেক রাসূল প্রেরণ করেছি যাদের কথা আপনাকে বলিনি (সূরা আন-নিসা, আয়াত: ১৬৪)।

এক্ষেত্রে আল্লাহ তায়ালা যত নবি-রাসুল পাঠিয়েছেন তাঁদের সবার ওপর আমরা ইমান রাখব। তাঁদের মধ্যে সর্বপ্রথম নবি ছিলেন হযরত আদম (আ.), আর সর্বশেষ নবি ও রাসূল আমাদের প্রিয় নবি হযরত মুহাম্মদ (স.)।

নবি-রাসুলের পার্থক্য

অর্থগত দিক থেকে এ দুটি শব্দের মধ্যে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। আল্লাহ তায়ালা যাদের প্রতি আসমানি কিতাব নাজিল করেছেন কিংবা নতুন শরিয়ত প্রদান করেছেন, তাঁরা হলেন রাসূল। আর তাঁর প্রতি কোনো কিতাব অবতীর্ণ হয়নি কিংবা যাকে কোনো নতুন শরিয়ত দেওয়া হয়নি তিনি হলেন নবি। তিনি তাঁর পূর্ববর্তী রাসূলের শরিয়ত প্রচার করতেন। এ হিসেবে সকল রাসূলই নবি ছিলেন। কিন্তু সকল নবি রাসূল ছিলেন না। যেমন— আমাদের মহানবি (স.) ছিলেন একাধারে নবি ও রাসূল। হযরত নূহ (আ.) এর উপরে কোন কিতাব নাজিল হয়নি কিন্তু তাঁর দ্বারা শরিয়তের বিধি-বিধান প্রচার ও প্রবর্তন হয়েছে। তিনিও রাসূল ছিলেন। অপরদিকে হযরত হারুন (আ.) ছিলেন নবি। তাঁর প্রতি কোনো কিতাব নাজিল হয়নি। তিনি হযরত মুসা (আ.)-এর শরিয়ত প্রচার করতেন।

রিসালাতের তাৎপর্য

নবি-রাসুলগণ ছিলেন মানুষের প্রতি আল্লাহ তায়ালার বিশেষ নিয়ামত স্বরূপ। তাঁরা সকলকে তাওহিদের পথে ডাকতেন। কুফর, শিরক, নিফাক থেকে সতর্ক করতেন। উত্তম চরিত্র ও নৈতিক শিক্ষা প্রদান করতেন। নবিগণের দাওয়াতের মূল কথা আল্লাহর একত্ববাদ এবং তাঁর বিধি-বিধান প্রচার করা। এ সম্পর্কে আল-কুরআনে বর্ণিত হয়েছে—

يَقُومُ اعْبُدُوا اللَّهَ مَا لَكُم مِّنَ الْغَيْرِ

অর্থ : হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা আল্লাহর ইবাদত কর। তিনি ব্যতীত তোমাদের কোনো ইলাহ নেই (সূরা আল-আ'রাফ, আয়াত: ৭৩)।

১১

১২

ইসলাম শিক্ষা

নবি-রাসূলগণের দায়িত্বকে বলা হয় রিসালাত। এ রিসালাতের মর্ম বর্ণনা করে মহান আল্লাহ বলেন-

وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَسُولًا أَنْ اعْبُدُوا اللَّهَ وَاجْتَنِبُوا الطَّاغُوتَ ۚ

অর্থ: আর আল্লাহর ইবাদত করার ও তাগুতকে বর্জন করার নির্দেশ দেওয়ার জন্য আমি তো প্রত্যেক জাতির মধ্যেই রাসূল পাঠিয়েছি (সূরা আন-নাহল, আয়াত: ৩৬)।

নবি রাসূলগণ আল্লাহ তায়ালার দেওয়া এ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেন। যারা তাঁদের আনুগত্য ও অনুসরণ করেছে তারা সফলকাম হয়েছে। আমরা জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রিয়নবি (স.) এর আনীত বিধান অনুসরণ করব, তাহলে আমরাও সফলকাম হব।

কাজ : শিক্ষার্থীরা রিসালাত পাঠটি নীরবে পড়বে। অতঃপর রিসালাতের মর্ম সম্পর্কে পাঁচটি বাক্য লিখে শিক্ষককে দেখাবে।

পরবর্তী: খতমে নবুয়ত