ইসলাম শিক্ষা
কুরআন ও হাদীস শিক্ষা

তাজবিদ

পাঠ 2

তাজবিদ (التَّعْوِيدُ)

কুরআন মজিদ তিলাওয়াতে অনেক সাওয়াব পাওয়া যায়। এটি সর্বশ্রেষ্ঠ নফল ইবাদত। এর দ্বারা বান্দা বিরাট সম্মান ও মর্যাদার অধিকারী হয়। শুধু তিলাওয়াতকারীই নয় বরং তিলাওয়াতকারীর

৫২

ইসলাম শিক্ষা

মাতাপিতাও এতে সম্মানিত হন। হাদিসে এসেছে- যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ করে এবং তদনুযায়ী আমল করে, কিয়ামতের দিন তার পিতামাতাকে মুকুট পরানো হবে। এ মুকুটের উজ্জ্বল্য সূর্যের আলোর চেয়েও বেশি হবে। অন্য একটি হাদিসে রাসূলুল্লাহ (স.) বলেছেন, “তোমাদের মধ্যে এ ব্যক্তিই উত্তম যে কুরআন শেখে এবং অপরকেও শিক্ষা দেয়” (বুখারি : ৫০২৭)।

তিনি আরও বলেছেন, “তোমরা কুরআন তিলাওয়াত কর। কেননা কিয়ামতের দিন তা নিজ পাঠকারীদের জন্য সুপারিশ করবে” (মুসলিম : ১৮২৫)।

অতএব বোঝা গেল কুরআন তিলাওয়াত অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ আমল। আমরা বেশি বেশি নিয়মিত কুরআন পড়ব এবং অন্যকেও কুরআন পড়তে উৎসাহিত করব।

তাজবিদের গুরুত্ব

সহিহভাবে কুরআন পাঠের রীতিকে তাজবিদ বলে। আল-কুরআন তিলাওয়াতের ফজিলত লাভের জন্য সহিহ শুদ্ধভাবে কুরআন পড়তে হবে। আর এ জন্য তাজবিদের জ্ঞান অর্জন করা অত্যন্ত প্রয়োজন। তাজবিদ অনুসারে কুরআন তিলাওয়াত করা ওয়াজিব। তাজবিদ অনুসারে কুরআন না পড়লে পাঠকারী গুনাহগার হবে এবং তার নামায শুদ্ধ হবে না। তাজবিদ অনুযায়ী কুরআন পড়া সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেন,

وَرَبِّيَ الْقُرْآنَ تَرْتِيلًا

অর্থ : আপনি ধীরে ধীরে ও সুস্পষ্টভাবে কুরআন তিলাওয়াত করুন (সূরা আল-মুয্যাম্মিল, আয়াত : ৪)।

একটি হাদিসে রাসূলুল্লাহ (স.) বলেন, “ইলমে কুরআনে পারদর্শী ব্যক্তি এসব ফেরেশতার দলভুক্ত, যারা নেককার ও আল্লাহর হুকুমে লেখার কাজে ব্যস্ত। আর যে ব্যক্তি কষ্টকর হওয়া সত্ত্বেও বারবার চেষ্টা করে কুরআন তিলাওয়াত করে, সে দ্বিগুণ সাওয়াব লাভ করবে” (বুখারি : ৪৯৩৭ ও মুসলিম : ২৪৪)।

সুতরাং আমরা নিয়মিত তাজবিদসহ কুরআন তিলাওয়াত করব। যদি কুরআন তিলাওয়াত করতে কষ্ট হয় তবুও পড়তে চেষ্টা করব। কোনো অবস্থাতেই কুরআন তিলাওয়াত ত্যাগ করব না। আর তাজবিদ শিক্ষা করব। এতে আমরা বিরাট সম্মান ও মর্যাদার অধিকারী হতে পারব।

পরবর্তী: নূনে সাকিন ও তানবীনের বর্ণনা