ইসলাম শিক্ষা
কুরআন ও হাদীস শিক্ষা

নূনে সাকিন ও তানবীনের বর্ণনা

পাঠ 3

নুন সাকিন ও তানবিনের বর্ণনা

নুন সাকিন : জয়মযুক্ত নুনকে নুন সাকিন বলা হয়। অর্থাৎ যে নুনের উপর জয়ম ( — ) থাকে তাকে নুন সাকিন বলে। যেমন- أَنْ-إِنَّ-أَنْ

৩২

কুরআন ও হাদিস শিক্ষা

৫৩

তানবিন: দুই যবর (ـَ ), দুই যের (ـِ ) ও দুই পেশকে (ـُ ) তানবিন বলা হয়। তানবিনের মধ্যে একটি জযমযুক্ত নুন উহ্য অবস্থায় থাকে। উচ্চারণের সময় তা প্রকাশ পায়। যেমন- رَجُلٌ -এর উচ্চারণ হবে رَجُلُنَّ-এর মতো। অর্থাৎ ل (লাম) হরফের তানবিনের বদলে ل -এর উপর পেশ ও নুন সাকিন পড়া হয়।

নুন সাকিন ও তানবিনের হুকুম

নুন সাকিন ও তানবিনের উচ্চারণ একই রকম। এজন্য এ দুটির বর্ণনা তাজবিদশাস্ত্রে একসাথে করা হয়। তাজবিদে নুন সাকিন ও তানবিনের হুকুম চারটি। অর্থাৎ চারটি নিয়মে নুন সাকিন ও তানবিন পড়তে হয়।

এগুলো হলো-

  1. ইদগাম (إِذْهَمَ)
  2. ইখফা (إِخْفَاءَ)
  3. ইযহার (إِطْهَارَ)
  4. কুলব (قَلْبٌ) বা ইকলাব (إِفْلَابٌ)

নিম্নে আমরা এগুলো সম্পর্কে জানব।

ইদগাম

ইদগাম শব্দের অর্থ মিলিয়ে পড়া, সন্ধি করা। এক হরফকে অন্য হরফের সাথে মিলিয়ে সন্ধি করে পড়া।

তাজবিদের পরিভাষায় নুন সাকিন বা তানবিনের পর ইদগামের ছয়টি হরফ থেকে কোনো একটি হরফ থাকলে নুন সাকিন বা তানবিনের সাথে ঐ হরফকে সন্ধি করে মিলিয়ে পড়াকে ইদগাম বলা হয়।

ইদগামের ফলে উভয় হরফ একই সময়ে উচ্চারিত হয়। ইদগামের ফলে নুন সাকিন বা তানবিনের পরবর্তী হরফটি তাশদিদ (ـَ ) যুক্ত হয়। যেমন- مَنْ رَجُلٌ

ইদগামের হরফ মোট ছয়টি। যথা-

ي - ر - م - ل - و - ن

এগুলোকে একত্রে يَرْفَعُونَ বলা হয়। ইদগাম মোট দুই প্রকার। যথা :

  1. ক. গুনাহসহ ইদগাম
  2. খ. গুনাহ ছাড়া ইদগাম

২০২৬

৫৪

ইসলাম শিক্ষা

ক. গুনাহসহ ইদগাম : নুন সাকিন বা তানবিনের পর ي - و - م - ن এই চারটি হরফের যেকোনো একটি আসলে নুন সাকিন বা তানবিনকে ঐ হরফের সাথে মিলিয়ে এক আলিফ পরিমাণ গুনাহ করে পড়তে হয়। একে গুনাহসহ ইদগাম বলে। এর অপর নাম ইদগামে নাকিস। যেমন- حِطَّةٌ تَغْفِرُ لَكُمْ - مَنْ يَقُولُ এখানে ن নুন সাকিন ও তানবিন এরপর ي (ي) এবং ن (নুন) হরফ আসায় নুন সাকিন ও তানবিনকে ين নুন এর সাথে মিলিয়ে এক আলিফ পরিমাণ গুনাহ করে পড়তে হয়।

খ. গুনাহ ছাড়া ইদগাম : নুন সাকিন বা তানবিনের পর ل - ر (রা, লাম) এ দুটি হরফের কোনো একটি হরফ আসলে নুন সাকিন বা তানবিনকে গুনাহ না করে ঐ হরফের সাথে মিলিয়ে পড়তে হয়। একে গুনাহ ছাড়া ইদগাম বলে। এর অন্য নাম ইদগামে কামিল। যেমন :

مِنْ لَدُنْكَ - غَفُورٌ رَحِيمٌ

উপরের উদাহরণ দুটিতে নুন সাকিন ও তানবিনের পরে ر (রা) এবং ل (লাম) হরফ এসেছে। ফলে নুন সাকিন ও তানবিনকে এদের সাথে মিলিয়ে পড়তে হবে। তবে এক্ষেত্রে গুনাহ করা যাবে না।

ব্যতিক্রম : ইদগামের নিয়মে আমরা কিছু ব্যতিক্রম দেখতে পাই। যেমন- صِنْوَانٌ - بُنْيَانٌ - دُنْيَا

এ শব্দসমূহে নুন সাকিনের পর ي (ইয়া) এবং و (ওয়াও) হরফ এসেছে। কিন্তু এখানে ইদগামের নিয়মে নুন সাকিনকে পরবর্তী হরফের সাথে মিলিয়ে তাশদিদসহ পড়া হয় না। এর কারণ ইদগামের উদ্দেশ্য হলো শব্দের উচ্চারণকে সহজ করা। এসব শব্দে মিলিয়ে পড়লে উচ্চারণ কঠিন হয়ে যায়। এজন্য এ শব্দগুলোতে ইদগাম হয় না।

ইখফা (إِخْفَاءُ)

ইখফা অর্থ গোপন করে পড়া। ইখফার হরফ ১৫টি। যথা-

ت - ث - ج - د - ذ - ز - س - ش - ص - ض - ط - ظ - ف - ق - ك

নুন সাকিন বা তানবিনের পর ইখফার হরফ থেকে যেকোনো একটি হরফ এলে উক্ত নুন সাকিন বা তানবিনকে চন্দ্রবিন্দু উচ্চারণ করার মতো নাসিকা সংযোগে গোপন করে এক আলিফ পরিমাণ দীর্ঘ করে পড়াকে ইখফা বলে।

নুন সাকিনের মধ্যে ইখফার উদাহরণ :

مِنْ تَحْتِهَا - مُنْذِرِينَ - مِنْكُمْ - مِنْ سَبِيلٍ - مَنْ فَعَلَ - عِنْدِي

তানবিনের মধ্যে ইখফার উদাহরণ :

ذَرَّةٌ شَرًّا - نِعْمَةٌ تُجْزَى - ظِلًّا ظَلِيلًا

২০২৬

কুরআন ও হাদিস শিক্ষা

৫৫

ইহহার (إِظْهَارٌ)

ইহহার শব্দের অর্থ স্পষ্ট করে পড়া, প্রকাশ করে দেওয়া ইত্যাদি। তাজবিদের পরিভাষায় নুন সাকিন বা তানবিনের পর ইহহারের কোনো একটি হরফ আসলে ঐ নুন সাকিন বা তানবিনকে গুনাহ না করে স্পষ্টভাবে নিজ মাথরাজ থেকে পড়াকে ইহহার বলে।

ইহহারের হরফ মোট ছয়টি। যথা- ১০০

এ হরফগুলোকে হরফে হালকি বলা হয়।

উদাহরণ- مِنْهُمْ - مِنْ خَيْرٍ - عَزِيزٌ عَلَيْهِ

কালব বা ইকলাব قُلْبٌ বা إِقْلَابٌ

কালব বা ইকলাব অর্থ পরিবর্তন করে পড়া। তাজবিদের পরিভাষায় নুন সাকিন বা তানবিনের পর (বা) হরফ আসলে ঐ নুন সাকিন বা তানবিনকে মীম (র) দ্বারা পরিবর্তন করে এক আলিফ পরিমাণ গুনাহসহ পড়াকে কালব বা ইকলাব বলে।

ইকলাবের হরফ মাত্র একটি। এটি হলো- (বা)। উদাহরণ: مِنْ بَعْدِ سَبِيلٍ بَصِيرٌ

উল্লেখ্য, কুরআন মজিদে ইকলাবের অবস্থায় নুন সাকিন বা তানবিনের পাশে ছোট করে মীম হরফটি উল্লেখ থাকে।

কাজ: শিক্ষার্থীরা নুন সাকিন ও তানবিনের নিয়ম চারটি লিখে একটি চার্ট তৈরি করবে এবং শ্রেণিতে উপস্থাপন করবে।

পরবর্তী: মীম সাকিনের বর্ণনা