ইসলাম শিক্ষা
কুরআন ও হাদীস শিক্ষা

সূরা আল-জিলজাল

পাঠ 7

সূরা আল-যিলযাল (سُورَةُ الزَّلْزَالِ)

আল-কুরআনের ৯৯তম সূরা আল-যিলযাল। এ সূরায় কিয়ামতের অবস্থা বর্ণনা করা হয়েছে। সূরার প্রথম আয়াতে উল্লিখিত যিলযাল শব্দ থেকে এর নাম রাখা হয়েছে সূরা আল-যিলযাল। এটি মাদানি সূরার অন্তর্ভুক্ত। এর আয়াত সংখ্যা আটটি।

শানে নুযুল

একদা জনৈক ব্যক্তি একজন ফকিরকে অতি অল্প পরিমাণ খাদ্য দান করে। অতঃপর সে বলল যে, এ সামান্য দানে কি সাওয়াব হবে?

অপর এক ব্যক্তি ছোটো ছোটো গুনাহ করত। এগুলো থেকে বিরত থাকত না। বরং সে এগুলোকে অবহেলা করত। আর এগুলোর কোনো গুরুত্ব দিত না।

৬৩৬

কুরআন ও হাদিস শিক্ষা

৬১

এ দুই অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহ তায়ালা এ সূরা নাজিল করেন। আর সকলকে জানিয়ে দেন যে, পুণ্য যত ছোটো হোক কিয়ামত দিবসে সে এর প্রতিদান পাবে। আর পাপ যত ক্ষুদ্র হোক কিয়ামতে এর জন্য তাকে শাস্তি পেতে হবে। অতঃপর এগুলোর জন্যও পুরস্কার বা শাস্তি ভোগ করতে হবে।

শব্দার্থ

إِذَا- যখন
زُلْزِلَتْ- কম্পিত হবে
الْأَرْضُ- জমিন, পৃথিবী, মাটি
وَأَخْرَجَتْ- বের করে দেবে
أَثْقَالَ- বোঝাসমূহ, ভারসমূহ
قَالَ- বলবে
يَوْمَئِذٍ- সেদিন
تُحَدِّثُ- বর্ণনা করবে, কথা বলবে
أَخْبَارَ- সংবাদসমূহ, খবরসমূহ
يَصْدُرُ- বের হবে, প্রকাশিত হবে
أَشْتَاتًا- ভিন্ন ভিন্নভাবে, পৃথক পৃথকভাবে
أَعْمَالٌ- আমলসমূহ
مِثْقَالٌ- পরিমাণ
ذَرَّةٌ- বিন্দু, অণু, ক্ষুদ্রতম অংশ
خَيْرٌ- উত্তম, ভালো
شَرٌّ- মন্দ, খারাপ, নিকৃষ্ট
يَرَهُ- সে তা দেখবে

অনুবাদ

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ

দয়াময়, পরম দয়ালু আল্লাহর নামে।

إِذَا زُلْزِلَتِ الْأَرْضُ زِلْزَالَهَا

১. যখন পৃথিবী আপন কম্পনে প্রবলভাবে প্রকম্পিত হবে।

وَأَخْرَجَتِ الْأَرْضُ أَثْقَالَهَا

২. আর পৃথিবী যখন তার (অভ্যন্তরস্থ) ভারসমূহ বের করে দেবে।

৬২

ইসলাম শিক্ষা

وَقَالَ الْإِنْسَانُ مَا لَهَا

৩. এবং মানুষ বলতে থাকবে এর (পৃথিবীর) কী হলো?

يَوْمَئِذٍ تُحَدِّثُ أَخْبَارَهَا

৪. সেদিন পৃথিবী তার বৃত্তান্ত বর্ণনা করবে।

يَأْتِي رَبُّكَ أَوْحَى لَهَا

৫. কেননা আপনার প্রতিপালক তাকে (এজন্য) আদেশ করবেন।

يَوْمَئِذٍ يَصْدُرُ النَّاسُ أَشْتَاتًا لِّيُرَوْا أَعْمَالَهُمْ

৬. সেদিন মানুষ ভিন্ন ভিন্ন বলে বের হবে, যাতে তাদেরকে তাদের আমলসমূহ দেখানো যায়।

فَمَنْ يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ خَيْرًا يَرَهُ

৭. কেউ অণু পরিমাণ সৎকাজ করলে তা সে দেখবে।

وَمَنْ يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ شَرًّا يَرَهُ

৮. আর কেউ অণু পরিমাণ মন্দ কাজ করলে, তাও সে দেখতে পাবে।

ব্যাখ্যা

এ সুরায় কিয়ামত বা মহাপ্রলয়ের বর্ণনা চমৎকারভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। মহান আল্লাহ এক সময় গোটা দুনিয়া ধ্বংস করে দেবেন। তিনি হযরত ইসরাফিল (আ.)-কে শিঙ্গায় ফুঁক দেয়ার আদেশ দেবেন। হযরত ইসরাফিল (আ.)-তখন শিঙ্গায় ফুঁক দেবেন। তাঁর শিঙ্গার শব্দে সারা পৃথিবীর সমস্ত নিয়ম-শৃঙ্খলা ভেঙে যাবে। পৃথিবী চরমভাবে কাঁপতে থাকবে। পৃথিবীর দালানকোঠা, পাহাড়-পর্বত, গাছপালা সমস্ত কিছুই সেদিন ধ্বংস হয়ে যাবে। আসমান ভেঙে যাবে। ভূপৃষ্ঠ তার ভেতরের সবকিছু বের করে দেবে। কবরসমূহ থেকে মানুষ বের হয়ে আসবে। এসব কিছু দেখে মানুষ আশ্চর্যবোধ হয়ে যাবে। এরপর সকল মানুষ হাশরের ময়দানে একত্র হবে। সেখানে তাদের দুনিয়ার কাজকর্মের হিসাব নেওয়া হবে। ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্র কাজকর্মও সেদিন হিসাবের বাইরে থাকবে না। বরং ছোটো পাপ করলেও তার শাস্তি পেতে হবে। অন্যদিকে অণু পরিমাণ পুণ্য করলেও সেদিন মানুষ তার আমলনামায় দেখতে পাবে। এ পরিমাণ পুণ্যেরও প্রতিদান দেওয়া হবে।

৬২

কুরআন ও হাদিস শিক্ষা

৬৩

শিক্ষা : এ সূরার শিক্ষা নিম্নরূপ:

  • কিয়ামতে পৃথিবীর অবস্থা হবে ভয়াবহ। সমস্ত কিছু ধ্বংস হয়ে যাবে।
  • মানুষ মৃত্যুর পর পুনরায় জীবিত হবে।
  • হাশরের ময়দানে মানুষ নিজ নিজ আমলনামা দেখতে পাবে।
  • ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পাপ বা পুণ্য কোনো কিছুই এ আমলনামায় বাদ পড়বে না।

আমরা সর্বদা কিয়ামত, হাশর ও আখিরাতের কথা স্মরণ রাখব। সেখানে আল্লাহর সামনে আমাদের দাঁড়াতে হবে।

সকল কাজের হিসাব দিতে হবে। পাপ-পুণ্য যত ক্ষুদ্রই হোক না কেন সেদিন তাও আমাদের সামনে উপস্থিত করা হবে। সুতরাং আমরা ছোটো বড়ো কোনো পাপকে অবহেলা করব না, বরং সকল পাপ থেকে বেঁচে থাকব।

কাজ : শিক্ষার্থী সূরা যিলযালের চারটি শিক্ষা তার পাশের সহপাঠীকে বলবে এবং তা খাতায় লিখবে।

পরবর্তী: সূরা আল-ফিল